নিপুণ ছোয়ায় শান্ত-মায়াবী জল ও জঙ্গলের কাব্য - SOPNOBD

নিপুণ ছোয়ায় শান্ত-মায়াবী জল ও জঙ্গলের কাব্য

নিপুণ ছোয়ায় শান্ত-মায়াবী জল ও জঙ্গলের কাব্য

অসম্ভব সুন্দর, অতীব চমৎকার কথা গুলো এই রিসোর্টের সাথে বড়ই মানানসই বললে ভুল হবে না, অপরুপ  জল ও জঙ্গলের কাব্য একটি প্রাকৃতিক রিসোর্ট এর নাম। ঢাকার অদূরেই এর অবস্থান । টংগীর পুবাইলের পাইলট বাড়ির কথা হয়তো অনেকে জানেন। পূবাইলে ৯০ বিঘা জমির উপর গড়ে উঠেছে একটুকরো গ্রাম। বাঁশ আর পাটখড়ির বেড়া ,উপরে ছনের ছাউনি, সামনে দিগন্ত বিস্তৃত জলের নাচন। এটা তেমন আধুনিক জায়গা নয় কিন্তু পরিচ্ছন্ন সৌন্দর্যের ভান্ডার এবং গ্রাম-বাংলার একটা ছোয়া আছে এর আদলে। যারা অত্যাধুনিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত, হাই কমোড, বিলাসবহুল বাসস্হান না হলে চলে না তাদের না যাওয়াই ভাল । 

প্রাকৃতিক এক ভুমিকে অবিকৃত রেখে আরো প্রাকৃতিক করা হয়েছে ডিজাইনারের নিপুণ ছোয়ায়। বিলের ওপর অল্প খরচে সারাদিন ঘুরে আসার জন্য এর চেয়ে ভাল জায়গা হবে না। প্রাকৃতিক গাছপালা আর শান্ত-চুপচাপ বিলের পারে বসে কাটিয়ে দিন সারাটা দিন।বেলাই বিল মানে ওয়াটার বডিকে কেন্দ্রীয় চরিত্র রেখে তৈরি করা হয়েছে জল জঙ্গলের কাব্য। নিজস্ব জমির শাক-সবজি ও ধান দিয়ে খাবার তৈরি হয়। বিল থেকে মাছও ধরা হয়। সকালে চালগুঁড়ার রুটির কথা অনেকে মনে রাখেন। ঢাকার আসে পাশে একদিনের মধ্যে ঘুরে আসার জন্যে এর থেকে ভালো জায়গা খুব কমই পাবেন। 

পাইলট ভদ্রলোক খুব বেশি পরিবর্তন করতে চায়নি গ্রামটিকে। প্রকৃতিকে খুব বেশি পরিবর্তন না করে বিশাল এক জায়গা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে রিসোর্ট।

বিশাল একটি বিল, পুকুর আর বন-জঙ্গল আছে এখানে। যে কেউ চাইলে একটা দিন এখানে কাটিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। খুবই অন্যরকম পরিবেশ নিয়ে তৈরি এই রিসোর্ট। যারা প্রকৃতিকে ভালোবাসেন তাদের অসম্ভব ভালো লাগবে এখানে এলে । 


কিভাবে যাবেন ? 


টংগী,নরসিংদী, ভৈরব বা কালিগঞ্জ এর বাসে পুবাইল কলেজ গেট নেমে পড়ুন। বামে রাস্তায় ব্যাটরী চালিত রিক্সায় করে প্রায় তিন মাইল গেলেই পাইলট বাড়ি বা জল ও জঙ্গলের কাব্য। এলাকাটি ডেমোর পাড়া নামে পরিচিত। ঢাকার সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, আজিমপুর, মহাখালী থেকে গাজীপুর পরিবহন, ঢাকা পরিবহন, ভিআইপি পরিবহন ও বলাকা পরিবহনে শিববাড়ী চলে যাবেন। ভাড়া ৭০ টাকা। শিববাড়ী থেকে অটোরিকশায় ভাদুন (ইছালি) জল জঙ্গলের কাব্য রিসোর্ট। ভাড়া ৮০-১০০ টাকা। অটোরিকশা ওঠার আগে দামাদামি করে নিবেন । 


কত খরচ পড়বে ? 


সারাদিনের জন্য জনপ্রতি ১৫০০ টাকা (সকালের সাস্তা, দুপুরের খাবার আর বিকেলে স্ন্যাক্স)।

এক দিন এবং একরাতের জন্য ৩০০০ টাকা জন প্রতি। শিশু, কাজের লোক ও ড্রাইভারদের জন্য ৬০০ টাকা জন প্রতি।

কি খাবেন ?


এখানের পৌছানোর সাথে সাথেই আপ্যায়নে রয়েছে শরবতের ব্যবস্থা। নাস্তায় চিতই পিঠা, গুড়, লুচি, মাংশ, ভাজি, মুড়ি এবং চা।সকাল আর দুপুরের মধ্য সময়ে রয়েছে রিসোর্ট এর নিজস্ব মৌসুমি ফলাহারের ব্যবস্থা। দুপুরের খাবার হিসেবে ১০-১২ রকম দেশী আইটেম।

মোটা চালের ভাত, পোলাও, মুরগির ঝোল, ছোট মাছ আর টক দিয়ে কচুমুখির ঝোল, দেশী রুই মাছ, ডাল, সবজি,নোনা ইলিশের বড়া এবং কয়েক রকমের সুস্বাদু ভর্তা।
বিকালে রয়েছে পিঠা আর চায়ের ব্যবস্থা।
খাবারের আয়োজনের ত্র্রুটি রাখেননি এখানকার কর্তৃপক্ষ।

মহিলাদের জন্য রয়েছে আলাদা নামাযের ঘর।
রয়েছে গান-বাজনার ব্যবস্থা । পরিবার আর বন্ধু-বান্ধব নিয়ে কাটাতে পারেন অসম্ভব সুন্দর একটা দিন।

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post