কম খরচে ভ্রমণ করার ১০টি টিপস - SOPNOBD

কম খরচে ভ্রমণ করার ১০টি টিপস

কম খরচে ভ্রমণ করার ১০টি টিপস

ভ্রমণ করা মানেই হলো আপনি ঘর থেকে একটু দুরেই যাচ্ছেন। সেখানে গিয়ে আপনার যেটা প্রয়োজন সেটা হলো নিরপত্তা ও নিরাপদে ভ্রমণ। কিন্তু তবুও ানেকে কম খরচে ভ্রমণ করার উপায় খোঁজেন । পরিবার পরিজন নিয়ে ভ্রমণে বের হলে  সেটা না চাইলেও ছাত্রদের জন্য কম খরচে ভ্রমণ করারটা চলে। কিন্তু ভ্রমণ করার জন্য যেমন অনেক তথ্য দরকার তেমনি কম খরচে ভ্রমণ করার জন্যও উপায় জানা দরকার। 

আসুন তাহলে জেনে নিই কিভাবে ভ্রমণের খরচ কমাবেন।

১. দলে ভ্রমণ করুন


যখনি কোথাও ঘুরতে যাবেন আট দশজন বন্ধু বান্ধব নিয়ে ভ্রমণ করুন খরচ কমে যাবে। যদি গাড়ির পথ হয় এক গাড়িতে কতজন ঘুরতে পারবেন সে গুনিতকে ঘুরুন। যেমন যেখানে ঘুরতে যাবেন সেখানে নৌকায় ভ্রমণ আছে। সেটা আবার ব্যয় বহূল। সেখানকার নৌকাপ্রতি ৬ জন উঠতে পারে। তাহলে আপনি ৬ জন, ১২ জন অথবা ১৮ জনের দল তৈরী করুন। অথবা সিএনজি, প্রতি সিএনজিতে ৫ জন করে হলে ১০ কিংবা ১৫ জনের দল করুন। 

২. সুবিধা শেয়ার করুন


পর্যটন এলাকাগুলোতে বিভিন্ন ধরনের হোটেল ও সেবা থাকে। যেমন একটি সিঙ্গেল রুমের ভাড়া যদি ১ হাজার টাকা হয় হয়তো ডাবল রুমের ভাড়া হবে ১২শ, মানে জনপ্রিতি ৬শ টাকা।  আবার যদি আপনি কক্সবাজার ভ্রমণ করেন সেখানে ডরমেটরী আছে পর্যটন কর্পোরেশন এর তার সিটভাড়া ৩০০ টাকা। ছাত্রদের জন্য যা খুব সাশ্রয়ী। কাছের বন্ধুরা মিলে ভ্রমণ করলে খাবারও শেয়ার করতে পারেন। 


৩. সিজন আসার আগে বা পরে ভ্রমণ পরিকল্পনা করুন


মনে রাখবেন পিক সিজনে সবকিছুর দাম বেশী থাকে। শুধু তাই নয় কয়েকদিন আগে বুকিং দিতে চাইলে আপনি সিটখালি পাবেন না। তাই সিজন আসার আগেই হোটেল ও অন্যান্য যোগাযোগ করে বুকিং দিয়ে রাখুন। ২০-৩০ শতাংশ সাশ্রয়ী হতে পারে। তাই সিজন আসার আগে বা পরে ভ্রমণ করুন।

৪. ছুটির দিন বাদ দিয়ে ভ্রমণ করুন


ছুটির দিনে সব ভ্রমণ স্পটগুলোতে প্রচুর ভিড় হয়। ফলে সেদিন বাস টিকেট, হোটেলরুম ,খাবার দাবার স্থানীয় পরিবহন সবকিছুর চড়া মূল্য থাকে। আপনি যদি খোলার দিন ভ্রমণ করতে পারেন অফিস বা কর্মক্ষেত্র থেকে ছুটি নিয়ে ২/১ দিনের জন্য। দেখবেন সব জায়গায় কম দামে পাচ্ছেন। দেখা গেলো দরদাম করে হোটেলে রুম নিতে পারবেন। অনেকে ছুটি না নিয়ে ছুটির দিন ভ্রমণ করেন তাতে কিন্তু লোকসান বেশী হয়। তাই খোলার দিন ভ্রমণ করলে শুধু খরচ নয় আরো অনেক ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে পারেন। 


৫. আগেই বুকিং দিন


আপনি হাতে সময় নিয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা করুন। এবং হোটেল ও অন্যান্য সেবা সাম্ভাব্যক্ষেত্রে আগেই বুকিং দিয়ে রাখুন। অগ্রিম বৃকিং এর জন্য হোটেলগুলো কমদামে নিতে পারে। আপনি বিকাশের চেয়ে অনলাইনকে বেশী প্রায়োরিটি দেবেন তাহলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবেনা। বেশীরভাগ মানুষেই সিদ্ধান্ত নিতে দেরী করেন। কেউ দোটানায় ভোগেন কক্সবাজার নাকি সাজেক যাবেন। এভাবে করে শেষ ,মুহুর্তে ঠিক করেন তখন সবকিছুর দাম বেড়ে যায়। সিদ্ধান্ত নেয়ার ভালো উপায় হলো রেনডম করা। এবার সাগরে গেলেন তো পরের বার পাহাড়ে গেলেন এবার কোনো দ্বীপে গেলেনতো পরের বার প্রত্নতাত্তিকস্থানে গেলেন এবার কোনো নদীর পাড়ে গেলেনতো পরের বার কোনো লোকালয় ভ্রশন করলেন। 


৬. দরদাম করুন


পর্যটন স্থানগুলোতে জিনিসপত্রের দাম  সব সময় উঠানামা করে মানে পর্যটক বেড়ে গেলে দাম বেড়ে যায়, লোক কমে গেলে দাম কমে যায়। তাই আপনি চাইলে দরদাম করে নিতে পারেন। খুব বেশী ক্রাইসিস না হলে কিছু সুবিধা পেয়েও যেতে পারেন। এছাড়া একেবারে মেইনরোড বাদ দিয়ে ছোটখাটো রাস্তার ধারে যেতে পারেন। অবশ্য যদি নিরাপত্তার আশংকা না থাকে। 

৭. অন্যভাবে পোষানোর চেষ্টা করুন।


আপনি চাইলে সফরকে বিভিন্নভাবে পোষাতে পারেন। যেমন আপনি সুন্দরবন বেড়াতে গেলেন সেখান থেকে ৩০০ টাকা দামে ১০ কেজী মধু ‍নিয়ে আসলেন। প্রতি কেজীতে ১০০ টাকা লাভ করে অফিসের কলিগ ও বন্ধুবান্ধবদের মাঝে বিক্রি করলেন, দেখাগেলো আপনি খরচের একটা অংশ সেখান থেকে তুলে নিলেন। তবে এক্ষেত্রে বিক্রি করতে পারবেন কিনা বা দাম তুলতে পারবেন কিনা সেটা আগেই ভেবে নেবেন।

৮. সরকারী রেস্ট হাউস ব্যবহার করুন


আপনি জানেন যে, বেসরকারী হোটেল মোটেল এর চেয়ে সরকারী গেষ্টহাউস ও বাংলোগুলোতে কম ভাড়ায় থাকা যায়। কোথায় ১০০ বা ২০০ টাকায়ও থাকতে পারবেন একরুমে। এজন্য অবশ্যই আগে থেকে যোগাযোগ করে বুকিং দিয়ে যাবেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারী রেফ দরকার হয়। যেমন আপনি যদি রেলওয়ের বাংলাতে থাকতে চান চট্টগ্রামে সেখানে হয়তো রেলওয়ের কারো রেফারেন্স প্রয়োজন হতে পারে। কখনো আগে থেকে যোগাযোগ না করে সরকারী হল পাবার আশা করবেন না।

৯. কমিউনিটি ট্যুরিজম এর সাহায্য নিতে পারেন


কম্যুউনিটি ট্যুরিজম হলো স্থাণীয় লোকজনের ট্যুরিজম সেবা। যেমন আপনি যদি সাজেক যেতে চান। সেখানে প্রধান হোটেলটির ভাড়া যেখানে প্রতিরাত ৫ হাজার টাকা সেখানে আপনি কোনো আদিবাসী বা উপজাতির বাসায় থাকলে আপনার ভাড়া পড়তে পারে ২০০ টাকা। না ভয় নেই আদিবাসীরা ঘর ভাড়া দেয় তারা পর্যটকের উপযুক্ত করেই তাদের ঘরগুলো তৈরী করে রাখে। এবং তাদের ঘরে খাবারের ব্যবস্থাও থাকে।

১০. অন্যকাজের সাথে মিলিয়ে নিন


যদি সম্ভব হয় আপনি কক্সবাজার শুধু ভ্রমনের জন্য না গিয়ে অন্য কাজের সাথে ট্যাগ করে নিন। ধরে নিন অফিসের কোনো কাজে কক্সবাজার যাবেন। সূতরাং সেইসাথে ২ দিনের ছুটি নেয় কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারেন। হয়তো সবসময় সম্ভব হবে না। তবে অবশ্যই বিষয়টি আগে থেকে মাথায় রাখবেন। তা না হলে দেখা যাবে অন্য একজন ঠিকই সুযোগ নিলো আপনি ডিসেম্বরে কক্সবাজার যাবেন মনে করে বসে রইলেন।

যদিও অনেকে মনে করেন কোনো ট্যুর অপারেটন এর মাধ্যমে ভ্রমনে যাওয়া মানে বিশাল খরচ। আসলে তা নায়। বরং সেভাবেও আপনার খরচ কমতে পারে। তবে আপনাকে অবশ্যই ভালো ও পেশাদার অপারেটর খুজে নিতে হবে। ট্যুর অপারেটরা যে সেবা দেন সে একই মানের সেবা  আপনি এককভাবে নিতে গেলে খরচ বেশীই পড়বে। অপারেটর দলগতভাবে প্লান করেন, হোটেলে ছাড় পান এবং কয়েকমাস আগে বুকিং দিয়ে রাখেন বলে তিনি লাভ করতে পারেন।

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post