দূর পাল্লার ভ্রমণে যেতে চান? জেনে নিন কিছু জরুরী বিষয় - SOPNOBD

দূর পাল্লার ভ্রমণে যেতে চান? জেনে নিন কিছু জরুরী বিষয়

দূর পাল্লার ভ্রমণে যেতে চান? জেনে নিন কিছু জরুরী বিষয়

দূরপাল্লার ভ্রমণে যেতে কেউ কেউ রাজকীয় প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন পরে দেখা যায় বোঝাটা ভারী হয়ে গেছে। বা জরুরী জিনিসটাই ভুলে গেছেন। আবার কেউ কেউ হেলা ফেলা করেন, হুট হাট দূরে কোথাও চলে যান। পরে জায়গায় গিয়ে ভুল বুঝতে পারেন। ওটা ঠিক হয়নি, ওটা ভুলে গেছি, খবর নিয়ে আসা উচিত ছিলো, বাসের সিট ভালো নয় কেন? হোটেলে সিট নেই কেন? টাকাতো শর্ট আছে। ইত্যাদি নানা সমস্যা আসুন দূরপাল্লায় ভ্রমনে সতর্কতার বিষয়গুলো একবার ঝালিয়ে নিই।


প্রস্তুতি পর্ব


 ১. দূরপাল্লা ভ্রমনের আগে গাড়ির সময়, টিকেট এগুলো আগে ঠিক করে নিন। নিজের গাড়ি হলে তেল ও যন্ত্রাংশ দেখে নিন। নিজে ড্রাইভ করলে একজন সহযোগী নেন। ঘুমিয়ে প্রস্তুতি নিন। আর ড্রাইভার হলে তাকে ২/৩ দিন আগেই বলে রাখুন। হুট করে ডিসিসান নিয়ে দূরে না যাওয়াই ভালো।

২. কি কি সাথে নেবেন একটা চেকলিস্ট করুন। তারপর একটা করে ব্যাগে ভরুন আর টিক মার্ক দিন। আর কি কি কিনতে হবে সেটার আলাদা একটা লিস্ট করেন যা যা কেনা হয়েছে কি মার্ক করুন।

৩. গাড়িতে উঠার আগেই গাড়ির নাম্বার নিয়ে রাখবেন। পারলে সেটা কোনো আত্মীয়কে এসএমএস করে দেবেন। বিপদের কি হাত পা আছে? বলেন।

৪. মোবাইলে ব্যাটারী ও ব্যালেন্স পর্যাপ্ত করে গাড়িতে উঠবেন। টাকাপয়সা ও মূল্যবান জিনিস সাথে রাখবেন। তবে মহিলাদের দামী অলংকার নিয়ে না যাওয়াই ভালো।

৫. যেখানে ঘুরতে যান সেখানকার আবহাওয়া, জিনিসপত্রের দাম, সাপ্তাহিক ছুটি, আইনশৃংখলা, রাস্তাঘাট, রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মোবাইল নেটওয়ার্ক, ব্যাংকিং সুবিধা ও ইভেন্ট বা ফেস্টিভ্যাল সম্পর্কে খবর নিয়ে যাবেন।

৬. অবশ্যই যেখানে যাচ্ছেন সেখানকার ইতিহাস, নামকরণ, বিখ্যাত স্থান, খাবার ও ব্যক্তি এসব জেনে নিবেন তাতে আপনি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন।

৭. যদি আগেই হোটেল, লজ, বাস বা ট্রেন ইত্যাদি বুক করে রাখেন তাহলে পরে বিপদে পড়তে হবে না। আজকাল ইন্টারনেটের যুগে আপনি নেট থেকে বা কোনো ট্যুর অপারেটন থেকে সেবাগুলো নিতে পারেন।

 হাইওয়ে ইস্যু

১. হাইওয়েতে লেন মেনে গাড়ি চালান এবং চালাতে চালককে উদ্ভুদ্ধ করুন। ওভারটেক করুন সর্তকভাবে। ব্রিজের উপর কাজটা করতে যাবেন না।

২. পলিথিন, বমির ট্যাবলেট, আঁচার, পানি এসব সাথে নিয়ে গাড়িতে উঠুন। বাড়িতে তৈরী হালকা নাস্তাও সাথে নিন। তবে খুব বেশী না খাওয়াই ভালো।
৩. গাড়ি গ্যাসের জন্য থামালে নেমে দাড়ান। পুলিশ ব্যতিত অন্যকেউ ইশারা দিলে রাতে গাড়ি না থামানোই ভালো।

৪. হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে নাস্তার জন্য দাড়ালে ব্যাগ সাথে নিয়ে যাবেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সারবেন। ওয়াশরুমে সময় বেশী ব্যয় হলে কম সময়ে নাস্তা করবেন বা সাথে নিয়ে গাড়িতে উঠে যাবেন।

৫. অপরিচিত কারো সাথে বসলে সতর্ক থাকবেন। সন্দেহজনক হলে সুপারভাইজারকে জানাবেন। কিছু দিলে খাবেন না। আর বেশী খাতির জমাতে চাইলে সতর্ক থাকবেন।


গাড়ি চালনার ব্যাপারে

১. গাড়ি মাঝারী গতিতে চালান। অধিক রাত করে নিজে গাড়ি ড্রাইভ করবেন না। নির্জন এলাকায় থামবেন না। বাসে উঠলে পাশের যাত্রীর ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

২. বেশী হরণ দেয়ার ব্যাপার চালককে নিরাগ্রহ করুন। হাসপাতাল, স্কুল, ধর্মালয়, হোস্টেল এসবের পাশ দিয়ে চালানোর সময় হরণ দেবেন না। আশপাশে শিশু থাকলেও কাজটি করতে যাবেন না। বাসের চালকরা এগুলো মানে না। প্রয়োজনে চালকের কথা বলুন।

৩. সাথে নারী শিশু ও বয়স্ক লোক থাকলে সতর্ক থাকবেন। ড্রাইভার বেশী গতিতে গাড়ি চালালে তাকে নিবৃত করবেন।

৪. জোরে বা আস্তে গাড়ি চালানো, লোক তোলা বা অন্য কোনো কারণে ড্রাইভারের প্রতি বিরক্ত হলে গালি দিবেন না। তাকে বুঝিয়ে বলবেন। কারণ তার মেজাজের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করে।

৫. পাহাড়ী এলাকায় ঘুরতে গেলে অভিজ্ঞ ড্রাইভার নেয়ার চেষ্টা করবেন বিশেষ করে যে ড্রাইভারের পাহাড়ী রাস্তায় গাড়ী চালানোর অভ্যাস আছে।

৬. বনের মধ্যে দিয়ে গাড়ী চালালে খেয়াল করুন কোনো ছোট প্রানীও রাস্তা পার হচ্ছে কিনা?

৭. বেশী দূরের রাস্তা হলে ২ জন চালক থাকুন। নিজের গাড়ি হলেও অন্তত সাথে গাড়ী চালাতে দক্ষ একজনকে রাখুন।

৮. ঘুম ঘুম চোখে গাড়ী চালাবেন না। ড্রাইভার এমনকি করছে কিনা খেয়াল করুন।

৯. অবশ্যই দূরে যাওয়ার আগে গাড়ীর ইঞ্জিন ফুয়েল সব ঠিক আছে কিনা দেখে নেবেন। আর প্রয়োজনীয় কিছু মেরামতি যন্ত্রাংশ সাথে নেবেন। ইঞ্জিনে পানি দেয়ার জন্য ছোট বালতিটার কথা ভুলে যাবেন না।

 ভ্রমণকে নিরাপদ করতে


১. আপনার টিকেটের গায়ে নাম ঠিকানা ফোন নাম্বার, বাসার ফোন নাম্বার এগুলো লিখে নেবেন। যদি কাউন্টার না লেখে আপনি নিজেও্ লিখতে পারেন। আপনার একটা ছবিযুক্ত আইডি কার্ড সাথে রাখবেন।

২. সাথে বই বা পত্রিকা রাখবেন। সময় ভালো কাটবে। সাথে পড়ালেখাও হবে। তবে গাড়ি থেকে নামার ১০ মিনিট বা ১০ কিলোমিটার আগে এগুলো সব গুচিয়ে রাখবেন।

৩. আপনার কয়টা ব্যাগ ছিলো সংখ্যাটা মনে রাখুন। তারপর সেগুলো বুঝে নিন। ব্যাগের টোকেন যত্ন করে রাখুন। গাড়ির ভেতরে সানসেটে যেসব ব্যাগ রাখবেন সেগুলো বিপরীত দিকে কাছাকাছি রাখুন। ব্যাগের দিকে চোখ রাখুন।

৪. জ্যামের কারণে বা অন্য কোনো প্রয়োজনে গাড়ি থামালে দূরে কোথাও যাবেন না।

৫. ইমারজেন্সি ডোর কোনদিকে জেনে নিন। গাড়িতে কি সুবিধা অসুবিধা আছে একবার দেখে নিন।

হাত ও মাথা জানালার বাইরে নেবেন না। অনেকক্ষণ দূরে তাকিয়ে থাকবেন না।

৬. কোনো দূর্ঘটনার জন্য মানসিক প্রস্তুতি রাখুন। হলে পরে হাত দিয়ে গ্লাস ভাংতে যাবেন না। সবাই শান্ত থাকতে বলুন। নিজে সেভ করুন। শিশু ও নারীদেরকে নিরাপদ করার কাজ করুন।


 হাইওয়ে ম্যানারর্স


 ১. সিট দেখে বসবেন। আপনার সিট যদি জানালার পাশে হয় তাহলে পাশের যাত্রীর সুবিধা অসুবিধা খেয়াল রাখবেন।

২. জানালার গ্লাস সরানোর সময় সামনের বা পেছনের যাত্রীর হাতে লাগছে কিনা বা সুবিধা অসুবিধা হচ্ছে কিনা দেখে নেবেন।

৩. আপনার সিট হেলানোর সময় পেছনের যাত্রীকে বলে নেবেন যে, আপনি সিট হেলাচ্ছেন। কারণ তাতে তার অসুবিধা হতে পারে।

৪. সুপারভাইজারের সাথে যাত্রীদের বা যাত্রীর ঝগড়া হলে পক্ষ নেবেন না। নিরপেক্ষভাবে মিটমাট করার চেষ্টা করবেন।

৫. অন্য যাত্রীর কারণে সমস্যা হলে বিনয়ের সহিত বলুন। আপনার কারণে কারো সমস্যা হলে সরি বলতে দ্বিধা করবেন না।

৬. চলন্ত অবস্থায় জানালা দিয়ে থুথু ফেলবেন না। এই থুথু বাইরে না পড়ে বাতাসে পেছনের যাত্রীর গায়ে পড়বে। বমিও জানালাই বাইরে করতে যাবেন না। রাস্তায় কলার ছোবড়া পলিথিন এগুলো ফেলবেন না। পানির বোতল ভেতরেই রেখে দিন।

৭. পাশের যাত্রীর বমির ভাব হলে তাকে জানালার পাশে দিন। না জানালা দিয়ে বমি করার জন্য নয়। একটু ভালো লাগার জন্য। বমিতো করতে হবে পলিথিনে।

৮. বাসের গলিতে ব্যাগ রেখে চলার প্রতিবন্ধকতা সৃস্টি করে অন্যদের বিরক্তির কারণ হবেন না।

৯. ঘুমের ঘোরে অন্যের গায়ে ঢলে পড়বেন না। যদি আপনার বাসে ঘুম আসার আশংকা থাকে তাহলে আগেই সিট হেলিয়ে নিবেন।

১০. পাশের যাত্রীর সাথে হালকা পরিচিত হয়ে নেবেন। বিপরীত লিঙ্গের অপরিচিত যাত্রী হলে তার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবেন। বেশী আদিখ্যেতা দেখাতে যাবেন না।

১১. নামায পড়ার অভ্যাস থাকলে পাশের যাত্রীর সমস্যা না করে নামায পড়ে নিন। সেজন্য আগেই ‍অযু করে উঠুন।

১২. ধুমপানের অভ্যাস থাকলে আগে পরে করে নিন। সাথে শুকনো আদা বা জিনজার রাখুন। সিগারেট এর বদলে শুকনো আদা মুখে দিন।

১৩. বন্ধুদের সাথে দলবেঁধে পাবলিক পরিবহনে উঠলে। হৈ চৈ করে অন্যদের বিরক্তির কারণ হবেন না।

১৪. কোথাও রাস্তার ধারে গাড়ি থামালে সেখানেই (পুরুষগণ) জলবিয়োগ করতে দাঁড়িয়ে যাবেন না। অন্তত নারী যাত্রীদের সম্মান করুন। একটু আড়ালে গিয়ে সারুন।

১৪. গাড়ীর গ্লাস ভাঙ্গা, স্টাফের আচরণ খারাপ এসব সমস্যা হলে তাদের সাথে খুব বেশী বাড়াবাড়ি না করে মালিক বা ম্যানেজারের নাম্বার নিয়ে নিন। এবং ভদ্রোচিতভাবে ফোন করে জানান। হতে পারে তিনি আগে থেকে জানেন তবুও যাত্রীর কাছ থেকে অভিযোগ শোনার আলাদা একটা গুরুত্ব থাকবে। এতে করে পরে যারা ভ্রমণ করবে তারা উপকৃত হবে।

ভালো থাকুন নিরন্তর।

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post