কোরআন আমার পরম বন্ধু – মাওলানা ইউনুস হোসাইন - SOPNOBD

কোরআন আমার পরম বন্ধু – মাওলানা ইউনুস হোসাইন



আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন :

إِنَّ هَٰذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا

“ এ কুরআন সে পথ দেখায়, যা সবচে সরল। আর মুমিনদেরকে যারা (গোনাহ থেকে পবিত্র থেকে) সৎকর্ম করে, তাদেরকে সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য আছে মহাপ্রতিদান।” বনি ইসরাঈল : ০৯

আয়াতে কুরআনের দেখানো পথকে ‘আকওয়াম’ বলা হয়েছে। ‘আকওয়াম’বলা হয়, যে পথ অভীষ্ট লক্ষ্যের একেবারে কাছাকাছি, খুব সহজ এবং বিপদমুক্ত নয় এমন পথকে।   মাও. মুহিউদ্দীন খান অনূদিত তাফসিরে মাআরেফুল কোরআন (সংক্ষিপ্ত সংস্করণ), পৃষ্ঠা : ৭৬৯
আল-কুরআন। আসমানি কিতাব এবং আল্লাহর কালাম। কুরআন ছাড়া আর যত আসমানি কিতাব আছে, এগুলো শুধু আল্লাহর কিতাব, আল্লাহর কালাম নয়।

কুরআন আল্লাহর ভাষা। জান্নাতের ভাষা। কুরআনের বানী চিরন্তন। যা মানবহৃদয়কে কাঁপিয়ে দেয়। বিবেককে করে স্তব্ধ । ভেতরে চিন্তার খোরাক জাগায়।তাইতো কঠোর হৃদয়ের উমরেরা কুরআন শুনে কোমল হয়ে মোমের মতোগলে যায়। কবিতা ভুলে যায় লাবিদের মতো যুগসেরা কবিরা। বিমোহিত হয়ওলিদ বিন মুগিরার মতো বড় বড় নেতারা। হতবাক হয়ে দরাজ গলায় বলে,আরে, এ কবিতা হতে পারে না ! এর শব্দ, বুনন কোনো মানুষের গড়া নয়। এবড় মিষ্টি। চিত্তাকর্ষক। বিবেকহরণকারী।

কুরআন সত্য। কুরআনের দেখানো পথ সঠিক। মানুষকে সে উভয় জাহানেরসফলতার পথ দেখায়। এটা মানুষের জন্য হেদায়েত। যে কুরআন তেলাওয়াত করে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। দুনিয়াতে তাকে সম্মানিত করেন।তিলাওয়াতকারীকে অনেক নেকি দান করেন।

আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে কুরআনেরএক হরফ পড়বে সে এক নেকি পাবে এবং নেকি দশগুণ বৃদ্ধি পাবে। আমিবলছি না, আলিফ-লাম-মিম একটি হরফ, বরং আলিফ একটি হরফ, লামএকটি হরফ এবং মিম একটি হরফ। সুনানে তিরমিযি, হাদিস : ২৯১০


কুরআন তার তিলাওয়াতকারীর জন্য নুর হবে। সে তাকে জানড়বাতে প্রবেশকরিয়ে তবেই ক্ষান্ত হবে। আল্লাহর দরবারে জানড়বাতের সুপারিশ করবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : “তোমরা কুরআনে পাক তিলাওয়াত কর। এটা কিয়ামতের দিন তার তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে।” সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৮০৪

অন্য হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: “যে মুমিন কুরআন তিলাওয়াত করে তার উপমা হল কমলালেবুর মতো। যার খুশবু ওস্বাদ দুটোই চমৎকার। আর যে তিলাওয়াত করে না তার উপমা হল খেজুরেরমতো। যার খুশবু নেই, তার স্বাদ খুবই মিষ্টি।” সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৪২৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৭৯৭।


তিলাওয়াতকারীর মর্যাদা বর্ণনায় ,আল-কুরআনের ইরশাদ,“যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, নামায কায়েম করে এবং আমি যে রিযিক দিয়েছি তার থেকে ব্যয় করে গোপনে-প্রকাশ্যে, তারা এমন ব্যবসারআশাবাদী, যাতে কখনো লোকসান হবে না।” ফাতির / ২৯।

যুগে যুগে যারাই আল্লাহর প্রিয় বান্দা ছিলেন , কুরআনের সাথে তাদের সম্পর্কটাখুবই মধুর ছিল। কুরআনকে যারাই আঁকড়ে ধরেছে তারাই সম্মানিত হয়েছেন,সফল হয়েছেন। আসুন, আমরাও বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াতের অভ্যাসগড়ি। আল্লাহ সকলকে কবুল করুন। আমিন।

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post