পাবনার ফরিদপুর জমিদার বাড়ি - SOPNOBD

পাবনার ফরিদপুর জমিদার বাড়ি


কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য রাজবাড়ি আমাদের দেশের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতীক। অতীতের স্মৃতি বিজড়িত এসব রাজবাড়ির সৌন্দর্য মুগ্ধ করে সকল ভ্রমণপ্রেমীদের। আর তাই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রাচীন এই জমিদারবাড়িগুলো ভ্রমণপ্রেমীদের প্রিয় গন্তব্য। তেমনই কালের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নান্দনিক ও স্নিগ্ধ সৌন্দর্যের পাবনার ফরিদপুর জমিদার বাড়ি। যেকোনো  ছুটি কিংবা অবসরে ঘুরে আসতে পারেন চমৎকার এই রাজবাড়িটি থেকে। এর চারপাশের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে বিমুগ্ধ করবে।

‘ফরিদপুর’ পাবনা জেলার একটি উপজেলা। এই উপজেলাটির একটি অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হল ফরিদপুর জমিদার বাড়ি। তাড়াশের জমিদার ‘বনওয়ারী লাল রায়’ এই জমিদার বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন। নদীবেষ্টিত, বনবেষ্টিত ছায়া সুনিবিড় আম্রকাননের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তার নাম অনুসারে এই গ্রামের নামকরণ করেন। যার নাম বনওয়ারী নগর। তার আগে জায়গাটির নাম ছিল ফরিদপুর।

ফরিদপুর জমিদার বাড়ি
হযরত শাহ শেখ ফরিদ (র:) নাম অনুসারে ফরিদপুরের নামকরণ করা হয়। হযরত শাহ শেখ ফরিদ (র:) এর মাজার উপজেলা সদর থেকে এক কিলোমিটার উত্তরে বড়াল নদীর ওপারে পার ফরিদপুর গ্রামে রয়েছে। মাজারের নিকট একটি মসজিদও রয়েছে। জমিদার বনমালী রায় বাহাদুর নিজের নামে গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেই সমাপ্ত করেননি, তাড়াশের জমিদার বাড়ির অনুরূপ আরও একটি বাড়ি তৈরি করেন।

পাবনা এ্যাডওয়ার্ড কলেজের জন্য জমি ও নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা দানের মাধ্যমে দানবীর জমিদার বনওয়ারী লাল ‘রায় বাহাদুর’ খেতাব অর্জন করেন। তাঁর পুত্র বনমালী রায়ও দানশীল ও শিক্ষানুরাগী ছিলেন। তিনি পাবনাতে বনমালী ইন্সটিটিউট, সিরাজগঞ্জে বিএল স্কুল এবং ফরিদপুরে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করোনেশন বনমালী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

ফরিদপুর জমিদারবাড়ি প্রতিষ্ঠা নিয়ে আরও একটি জনশ্রুতি আছে তবে তার কোনো ঐতিহাসিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তৎকালে জমিদার বনওয়ারী লাল তাড়াশ থেকে করতোয়া, গুমানী, বড়াল ও চিকনাই নদীপথে এসে ইছামতী নদী দিয়ে পাবনা সদরে খাজনা দিতে যেতেন। যাত্রাপথে একবার তিনি বড়াল নদীর পাড়ে এ সুন্দর ছায়াঘেরা স্থানে যাত্রা বিরতি করে বিশ্রাম করেন।

ফরিদপুর জমিদার বাড়ি
সেসময় তিনি একটি অদ্ভুত দৃশ্য দেখে মুগ্ধ ও বিস্মিত হন। ব্যাঙ সাপকে ভক্ষণ করছে। এতে তিনি বুঝতে পারেন জায়গাটি ব্যতিক্রমধর্মী। কারণ হিন্দু শাস্ত্রমতে সাপ মনসাদেবীর প্রতিমূর্তি। তিনি জায়গাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে বাড়ি তৈরি করেন এবং আস্তে আস্তে তাড়াশ থেকে বনওয়ারী নগরে তার জমিদারির সকল কার্যক্রম স্থানান্তর করেন।


চারদিকে দীঘি-বেষ্টিত একটি মাত্র প্রবেশদ্বার সংরক্ষিত ছায়াঘেরা আমবাগানের মধ্যে মনোরম এই বাড়িটি চমৎকার স্নিগ্ধ সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ। এখানে রয়েছে প্রকৃতির অপার সুন্দর কিছু মায়াময় দৃশ্য যা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। জমিদারবাড়িটির চারপাশ অবারিত সবুজ স্নিগ্ধতার মায়া দিয়ে ঘেরা। এই ছায়া-সুনিবিড় শীতলতায় বসলেই আপনার শরীর ও মন পরম প্রশান্তিতে ভরে উঠবে।

রাজবাড়িটি এখন উপজেলা পরিষদ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে এখানে জমিদারদের রাজস্ব অফিস, বাসভবন, জেলখানা, হাওয়া খানা ও দীঘির পানির মধ্যে নির্মিত অভিজাত গোসলখানা রয়েছে। এই ভবনগুলো এখন সরকারি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

যেভাবে যাবেন :

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সকল জেলা ও শহর থেকে যমুনা সেতুর মাধ্যমে সড়কপথে সরাসরি পাবনা যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে যমুনা সেতু হয়ে পাবনা যেতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগবে। ঢাকা থেকে বাদল, শ্যামলী, দুলকী, মহানগর ইত্যাদি বাস পাবনায় যায়।

পাবনা শহর থেকে লোকাল বাস অথবা সিএনজিতে চড়ে যেতে পারেন ফরিদপুর উপজেলায়।

যেখানে থাকবেন :

পাবনা শহরে থাকার জন্য নানান মানের হোটেল রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল হোটেল প্রবাসী ইন্টার ন্যাশনাল, হোটেল পার্ক, হোটেল শিলটন, ছায়ানীড় হোটেল,  প্রাইম গেস্ট হাউস, মিড নাইট মুন চাইনিজ রেস্টুরেন্ট,  স্বাগতম হোটেল এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি।

0/Post a Comment/Comments

Previous Post Next Post